
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে চাঞ্চল্যকর রিমন হত্যা মামলার এক বছর পর অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত রিমন হোসেন (২৩), পিতা আমজাদ হোসেন ও মাতা আসমা খাতুন, পাবনার সাথিয়া উপজেলার শংকর পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে সাভারের জয়নাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এমই বিডি টেক লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং রাতে ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকতেন।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রিমন প্রতিদিনের মতো ফ্যাক্টরিতে যান। পরদিন সকালে সহকর্মী আব্দুল মুন্নাফ শেখ কাজে এসে ফ্যাক্টরির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় রিমনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় গভীর ক্ষত পাওয়া যায়। হত্যার পর তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় ঘাতকরা। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা (নং-০৩, তাং-০৪/০৮/২০২৪, ধারা ৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।
প্রথমদিকে মামলাটির কোনো ক্লু পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে তদন্তভার পান এসআই চম্পক বড়ুয়া। তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জানতে পারেন, ফ্যাক্টরিতে চুরি করতে গিয়ে সিকিউরিটি গার্ড রিমনকে দেখে ফেলে আসামিরা। সে সময় রিমন চিৎকার দিলে আসামিরা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে।
অবশেষে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বাগেরহাটের গাংনি সরকারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মো. মানিক মোল্লা (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নিহতের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন সকালেই হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকা থেকে ভোলা সরকার ওরফে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে মানিক মোল্লা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় আরও দুই আসামি—সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও মো. হৃদয় আহমেদ (২৭)।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়,
মানিক ও ভোলা যথাক্রমে বাগেরহাট ও ঝালকাঠির বাসিন্দা এবং বাকি দুইজন সাইফুল ও হৃদয় সাভারের স্থানীয় বাসিন্দা।
১. মো. মানিক মোল্লা (৩৮), পিতা রুহুল আমিন, সাং গাংনি সরকারপাড়া, মোল্লারহাট, বাগেরহাট।
২. ভোলা সরকার ওরফে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০), পিতা নরেন সরকার, সাং নলছিটি, ঝালকাঠি; বর্তমানে জয়নাবাড়ি, হেমায়েতপুর, সাভার।
৩. সাইফুল ইসলাম (৩৫), পিতা আলম মিয়া, সাং জয়নাবাড়ি, হেমায়েতপুর, সাভার।
৪. মো. হৃদয় আহমেদ (২৭), পিতা হযরত আলী, সাং জয়নাবাড়ি, হেমায়েতপুর, সাভার।
পুলিশ জানিয়েছে, চার আসামিই হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
Leave a Reply