
র্যাব-৬ এর সহায়তায় দিনাজপুরের ক্লু-লেস হত্যা মামলার প্রধান খুনি বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার।
বার্তা ডেস্ক মিডিয়া সেল
দিনাজপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন কয়েকজনের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়।
অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম গত ০৮/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপর অভিযুক্ত সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, তিনি একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী।
পরবর্তীতে গত ১৬/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি সমন্বিত চৌকস টিম, বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১২, তারিখ-১৩/১২/২০২৫ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০-এর মূলে তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), পিতা-মোঃ মোতালেব শেখ, সাং-উৎকুল, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট-কে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-০৬, খুলনা-এর সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যতম আসামী মোঃ শাহ আলম কল্লোল (৫৬), পিতা-মৃত আলহাজ রজব আলী মোল্লা, সাং-মহারাজা মোড়, উত্তর বালুবাড়ী, দিনাজপুর-কে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত মোঃ শাহ আলম কল্লোলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মামলার আরেক অন্যতম আসামি মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), স্বামী-মৃত দানিউল ইসলাম, সাং-আরাজি চৌপুকুরিয়া, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর-কে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল ও মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন এবং দানিউল ইসলামকে হত্যার জন্য সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষায় থাকেন।
গত ০৩/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ থেকে শুরু হওয়া বীরগঞ্জ থানাধীন আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামস্থ জিন্দাপীর মেলা চলাকালীন অধিক লোকসমাগম থাকায় অভিযুক্তরা এটিকে হত্যার জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করে। অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে অজ্ঞাত ভাড়াটে খুনি চক্রকে দিনাজপুরে ডেকে আনা হয়। অভিযুক্ত মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং কীভাবে ডিসিস্ট দানিউলের বাসায় প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হবে- সে সংক্রান্ত একটি শর্ট ভিডিও তৈরি করে অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা তাঁর সঙ্গীয় পেশাদার খুনি বাহিনীসহ দিনাজপুর সদরের বালুবাড়ীতে শাহ আলম কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিস্ট দানিউলের বাসার চাবি গ্রহণ করেন এবং পূর্বে করা রেকির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গত ১৩/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে আনুমানিক ভোর রাতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা তাঁর সঙ্গীয় পেশাদার খুনি বাহিনীসহ দানিউল ইসলামকে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ডিসিস্ট দানিউল ইসলাম পেশায় একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। গত ১৩/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে আনুমানিক রাত ০২.০০ থেকে ০৩.০০ ঘটিকার মধ্যে নিজ শয়নকক্ষের বিছানার ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, রহস্যজনক ও ক্লু-লেস। অভিযুক্তরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিস্ট দানিউল ইসলামের নিজ বাসভবনের আনুমানিক ১০০ গজ সামনে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ফেলে দেওয়া বাসার তালার চাবি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী:
১। মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), পিতা: মোঃ মোতালেব শেখ, সাং: উৎকুল, থানা: বাগেরহাট সদর, জেলা: বাগেরহাট।
২। মোঃ শাহ আলম কল্লোল (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ রজব আলী মোল্লা, সাং: মহারাজা মোড়, উত্তর বালুবাড়ী,থানা: কোতয়ালী, জেলা: দিনাজপুর।
৩। মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), স্বামী: মৃত দানিউল ইসলাম, সাং: আরাজি চৌপুকুরিয়া, থানা: বীরগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর।
Leave a Reply