মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে হত্যা, পুকুরে লাশ ফেলে পালায় দুর্বৃত্তরা; দেড় বছর পর পিবিআই কর্তক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার০২, বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি
ঢাকার আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়ার জনৈক নাজমুল হোসেনের পুকুর থেকে গত ১৬/১২/২০২৪ খ্রি. তারিখ বিকালে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় হাসিবুল ইসলাম জনি (২১)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮/১০ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে গত ১৮/১২/২০২৪ খ্রি. তারিখে আশুলিয়া থানার মামলা নং-২৭, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রায় ৬ দিন মামলাটির তদন্ত করে। পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা গত ২৪/১২/২০২৪ খ্রি. তারিখে মামলার তদন্তভার স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই (নিঃ)মোঃ মাহবুব হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই কর্তৃক পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ শাহ জালাল সরকারকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেওয়া তথ্য মতে গত ১৮/০৬/২০২৬ তারিখ রাত ১.১৫ মিটিটে আশুলিয়া থানার মধুপুর এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০)-কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। গত ১৮/০৬/২০২৬ তারিখে আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী মোঃ শাহ জালাল সরকার বিজ্ঞ আদালতে ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই এর তদন্তে এবং আসামীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে আসামিরা ভিকটিম হাসিবুল ইসলাম জনিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন আশুলিয়া থানাধীন মধুপুর এলাকায় ভিকটিম জনি তার বন্ধু সোহাগ ও রানার সঙ্গে মাদক সেবন ও বিক্রয় করছিল। এ সময় শাহ জালাল সরকার, সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামি লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনিকে আটক করে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করে। পরে হত্যার প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে তারা জনৈক নাজমুল হোসেনের পুকুরে জনির লাশ ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।