
নারায়ণগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী চালক হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই: পিবিআইয়ের অভিযানে ৪ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৫
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মুছারচর এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করার ঘটনায় মাত্র চার দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই হত্যাকারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতারসহ ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। গ্রেফতারকৃত দুই আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান ।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিকটিম সোহেল (৪১) অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরে না আসায় সোহেলের পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরদিন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে নিহতের ভাই মো. মহসিন মিয়া (২৯) লোকমুখে জানতে পারেন যে, সোনারগাঁও থানার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় তিলাব থেকে মুছারচর গামী সড়কের পাশে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে আছে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি তার ভাই মো. সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে নিহতের ভাই মোঃ মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্রাইম সিন টীম শুরু থেকেই হত্যাকান্ডের ছায়া তদন্ত করতে থাকে এবং মামলাটি পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত মামলা হওয়ায়, পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) পুলক সরকারকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) পুলক সরকারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই জন আসামী মোঃ সুজন মিয়া (৩৩) ও (২) মোঃ শফিকুল ইসলাম হীরাকে (৩৯) গ্রেফতার করেন । তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা ক্রয়বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত আরও তিনজন আসামী মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), মোঃ আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) এবং মোঃ আবুল কাশেমকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের হেফাজত থেকে নিহতের ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে মোঃ সুজন মিয়া ও মোঃ শফিকুল ইসলাম হীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সোহেলকে টার্গেট করে।পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে তারা নানাখীবাজার থেকে আনন্দবাজার যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা ভাড়া নেয়।পরে কৌশলে ভিকটিম সোহেলকে কোমল পানীয় স্পিড ও কাশির সিরাপ মিশ্রিত পানীয় অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করিয়ে সন্ধ্যার পর মুছারচরের নির্জন এলাকায় নিয়ে স্কচটেপ পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে । এরপর তারা লাশ ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় এবং সেটি বিভিন্ন হাত বদলের মাধ্যমে বিক্রি করে।
গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সরাসরি মোঃ সুজন মিয়া ও মোঃ শফিকুল ইসলাম হীরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং বিজ্ঞ আদালত অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অপর তিন আসামির তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
Leave a Reply