
নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবতীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম মিতু পারভিন। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শরিফপুর গ্রামের মিরাজুল ইসলামের কন্যা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিতু পারভিনের প্রথম বিয়ে হয় নওগাঁর শিকারপুর গ্রামের সাকিব হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর সাকিব হোসেন সৌদি আরবে চলে যান। ওই সংসারে তাঁদের সাত বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরকীয়ার জেরে ২০২৪ সালে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শরিফপুর গ্রামের শুভ নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতুর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তবে এক বছর না যেতেই সেই সংসারেও বিচ্ছেদ ঘটে। সর্বশেষ গত বছর নওগাঁর তিলকপুর গ্রামের রিপন নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। রিপন চার মাস আগে ঢাকায় চলে গেলে মিতু একাই বসবাস শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে মিতু নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন। নিহতের বাবা মিরাজুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে ভবানীপুর গ্রামের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিরাজুল ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিয়ামুল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মনজের হোসেন নামের একজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।।
Leave a Reply