
আবারও লোকমান আতঙ্কে নগরবাসি।সিলেট শহরের সবার মুখে-মুখে গডফাদার লোকমানের নাম।কে এই লোকমান?
স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ আব্দুল মোতালিব খা।
লোকমানের বাড়ি কুমিল্লার চাঁদপুরে। সে কাজের খোঁজে সিলেট শহরে আসে; প্রথমে ভ্যান গাড়ি চালায়, পরে জিন্দা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনে পাপসের টুকটাক ব্যবসা করতো। তখন থেকেই সে শুধু আজেবাজে কাজে জড়িয়ে পড়ে। —যারে তারে ধরে এনে ফুটপাতে বসিয়ে দিত দোকানদারি করতে টাকার বিনিময়ে। ধীরে ধীরে ফুটপাতে থাকতে থাকতে চুরি-ছিন্তাইকারি, চাঁদাবাজদের নিয়ে ধীরে ধীরে সিন্ডিকেট বড় করে; জিন্দা বাজার ও বন্দর ফুটপাত নিজের সিন্ডিকেটের দখলে নিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছে ভাড়া দেয় এবং বন্দরবাজার ফাঁড়ির কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যকে লোভ-লালসা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরও প্রভাবিত করে।
পরে পুরো সিলেট শহরের ফুটপাতের চাঁদ লোকমান নিজে আদায় করে; নিজের সিন্ডিকেট ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে ভাগবাটরা করত। এরই মধ্যে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে; তখন তার কপাল খুলে যায়, কারণ তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা সবাই আওয়ালী লীগ সমর্থক ছিল। তখন সে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং সিন্ডিকেট বড় করে নানা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে। আর সবাইকে নিজের পরিচয় দিতে শুরু করে—সে কোতোয়ালী থানা ও বন্দরবাজার ফাঁড়ির কেশিয়ার। তখন তার সাথে বেশ কিছু আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও কিছু আওয়ামী লীগের পুলিশ একত্রিত হয়ে পুরো সিলেটকে অপরাধরাজ্য বানায়: অবৈধ হোটেল ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ভাড়া রেখে রাতে জোয়ার-কাটাকাটি ব্যবসা। সব থেকে বেশি ভারতীয় মালামাল সিলেট শহরে রাতের আঁধারে প্রবেশ করিয়েছে। তার সবচেয়ে বেশি খুটির জুর ছিল ছাত্রলীগ-যুবলীগে ও আওয়ামী পুলিশের কিছু সদস্য এবং আওয়ামী কিছু সাংবাদিক যারা পুরোপুরি শেল্টার দিত; কারণ যারা যারা শেল্টার দিত সবাই সাপ্তাহিক চাঁদা পেতো। লোকমান এত বেপরোয়া ছিল কারণ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল; পুরো আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ তাকে শেল্টার দিত এবং তার অপকর্মের চাঁদা খেতো। লোকমান আওয়ামী লীগের পুরো সময় আওয়ামী লীগ প্রশাসন দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সব সময় নানা ধরনের হয়রানি করতো।
জনমনে বিশেষ করে একটা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিস পুলিশ নেই? আওয়ামী ছাত্রলীগ কেউ নন? কিন্তু লোকমান ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছিল। সেই লোকমান আবার কী করে এই সিলেট শহরে ঘুরে বেড়ায়? শুধু শহরে নয়, কোতোয়ালী থানা ও ডিবি অফিস, সরকারের বিভিন্ন অফিসে তার কাজ কী? আওয়ামী লীগের গুপটি মেরে বসা নামদারি কিছু সাংবাদিক তাকে আবার তার অপকর্মের হারানো রাজ্য ফিরে পেতে সকল ধরনের সহযোগিতা করছে। লোকমানের বিরুদ্ধে যারা আগে কথা বলতো—পুলিশ, সাংবাদিক, সন্ত্রাসী—সবকিছু দিয়েই সে দমন করতো। এখন আবার লোকমানের পক্ষে অনেকেই কাজ শুরু করছে সিলেট শহরে সকল অপকর্ম শুরু করতে। লোকমান মরিয়া; কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেশের প্রেক্ষাপট অন্যরকম—পুলিশের সকল সদস্য দেশপ্রেমিক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন; তাই লোকমানকে পূর্ণবাসন করতে একটা পক্ষ খুব কষ্ট হচ্ছে।
ফুটপাতের কিছু কিছু গরীব ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করলে তারা বলে—লোকমানকে আমরা আর এই সিলেটে দেখতে চাই না। ৫ আগস্টের আগের লোকমান পুলিশকে কেশিয়ার দাবি করে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নিত; এখন চাঁদা দাবি করলে আমরা দেবো না। আপনারা সাংবাদিক, আপনারা আপনার লেখার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন যাতে পুলিশ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সে আর পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করতে পারে। পুলিশ প্রশাসন তাকে প্রতিহত করুক, নিজেদের মান-সম্মান রক্ষা করুক; কারণ এখন তো যে আওয়ামী লীগের কোন নেতা লোকমানকে থানায় দালালি করতে সুযোগ করে দিতে কাউকে সুপারিশ করবে না।
লোকমানের সাথে যোগাযোগ করলে দেখেন—আগে বলত আমি আওয়ামী লীগ করতাম; এখন দেখবেন আবার সিস্টেম করে বিএনপিতে ঢুকে যাবে।
আর নিউজ করে, এ পর্যন্ত কেউ কি আমাকে কিছু করতে পেরেছে? আমার টাকা সবাই খাইছে আর সামনে দেখবেন আবার সবাই খাবে। আপনার মত বহু সাংবাদিক আমার কাছে আছে।
Leave a Reply