
সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের পেট্রোল পাম্প গুলিতে অভিযান পরিচালনার দাবি।
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অনিয়ম, জ্বালানি সংকট এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, মিটারে কারচুপি এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার মতো অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন মোটরসাইকেল চালক, প্রাইভেটকার চালকসহ সাধারণ মানুষ।
আজ সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যায় দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে করে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
আশুলিয়ার একটি পাম্পের সামনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালক রাকিব হোসেন বলেন, “সকালে অফিস যাওয়ার জন্য তেল নিতে এসেছি। কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। মাঝেমধ্যে বলা হচ্ছে তেল শেষ। আবার কিছুক্ষণ পর দেখা যাচ্ছে অন্যদের দেওয়া হচ্ছে। এখানে নিশ্চয়ই কোনো অনিয়ম হচ্ছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন প্রাইভেটকার চালক সোহেল মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু পাম্পের কর্মচারীরা পরিচিত কিছু গাড়িকে আগে তেল দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছি। এই ধরনের বৈষম্য বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।”
ধামরাইয়ের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, “অনেক পাম্পেই মিটারে কারচুপি হচ্ছে। আমরা ১০ লিটার তেলের দাম দিলেও আসলে হয়তো ৮-৯ লিটার পাচ্ছি। এই বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন, কিন্তু গাড়ির মাইলেজ দেখলেই বোঝা যায় কিছু একটা সমস্যা আছে।”
এদিকে কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, অনেক পাম্পে সেই দাম মানা হচ্ছে না। অতিরিক্ত ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে প্রতি লিটারে। প্রতিবাদ করলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করা হয়।”
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবহন চালকরাও এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ। একটি পিকআপ ভ্যানের চালক আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করি। তেলের জন্য এত সময় নষ্ট হলে আমাদের আয় কমে যায়। উপরন্তু বেশি দাম দিলে খরচ বেড়ে যায়। এতে আমাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই সমস্যা নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই পাম্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চলে আসছে। তবে সম্প্রতি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব অনিয়ম বেড়ে যাচ্ছে।
একজন স্কুলশিক্ষক নাজমুল হক বলেন, “পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। প্রশাসন যদি হঠাৎ করে এসে মিটার পরীক্ষা করে এবং দাম যাচাই করে, তাহলে মালিকরা ভয় পাবে এবং সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে।”
এ বিষয়ে সচেতন মহলও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু করা হলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবে।
গ্রাহকদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানার মতো পদক্ষেপ নিলে অন্যরাও সতর্ক হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা যায় না। সঠিক তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সবাই।
Leave a Reply