
দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর বিজিএমইএ ও শ্রমিকফেডারেশনের সহায়তায় পাওনাদী বুঝে পেল ভালুকার রোর ফ্যাশনের শ্রমিকেরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি-
প্রাপ্য মুজুরী পেতে দীর্ঘ সময় আন্দোলন সংগ্রামের পর সফলতার মুখ দেখলো ভালুকার কাঠালী এলাকার রোর কারখানার শ্রমিকরা ।
২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ এর তত্ত্বাবধানে এই বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়।
শ্রমিকরা জানান রোর ফ্যাশন লিঃ কতৃপক্ষ নভেম্বর মাসের বেতন প্রদানে তালেবানা শুরু করে ডিসেম্বর মাস কাটিয়ে দেয় পরে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ চলে গেলেও নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বেতন প্রদান করেননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানাজানি হলে তথাকথিত কিছু শ্রমিক নেতা নামধারীগণ কারখানার কতৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে জানুয়ারির ২৩ তারিখে আমাদের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বেতনের মধ্যে মাত্র ৫০ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে আমাদের বলে তোমরা আর টাকা পাইবানা, মালিক পলাতক এবং ওই দিনই কতৃপক্ষ কাজ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ও মালিক পলাতক থাকার কথা বলে কারখানা লে অফ নোটিশ দেয়।
পরে এসকল তথাকথিত শ্রমিক নেতানেত্রীর অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমরা স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী রেবাকা আক্তার ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল এন্ড লেদার ও ওয়ার্কাস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী ফরিদা পারভিনের সাথে যোগাযোগ করি এবং বাংলাদেশ পোষাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকাশ ভাইয়ের সাথেও যোগাযোগ করি। তাঁরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে আমাদের প্রাপ্য পাওনা প্রদানে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান কিন্তু দুই মাসের মধ্যে কোন সুরাহা না পেয়ে রেবাকা আপা ও ফরিদা আপা আমাদের বিজিএমে নিয়ে যায়। ২৩ মার্চ ২৫ ইং তারিখে সেখানে তিন দিন তিন রাত অবস্থানের পর , পরে আমরা গাজীপুর ডিসি কার্যলয় যাই সেখানকার সিদ্ধান্তে আমরা সাময়িক ভাবে আংশিক পাওনা হিসেবে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাই এবং ঈদের পরে অবশিষ্ট পাওনাদির দাবিতে পুনরায় আন্দোলন করলে, পাওনাদি বিষয়ে বিজিএমইএর মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি হয়। পরে গতকাল ২৭ ও আজ ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ এর তত্ত্বাবধানে আমাদের পাওনাদি পরিশোধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ । শ্রমিকরা আরো জানান তাদের প্রাপ্য পাওনা পেতে এতো ভুগান্তির মূলে ঐসকল তথাকথিত দালাল শ্রমিক নেতারা। তাঁরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পাওনাদি নিয়ে ষড়যন্ত্র করে এসেছে কিন্তু স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল এন্ড লেদার ও ওয়ার্কাস ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ পোষাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে শেষ পর্যন্ত আমাদের পাওনাদি বুঝে পেলাম ।
Leave a Reply