পোষাক শ্রমিকদেরকে কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন স্বাধীনবাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আল কামরান।
শনিবার ( ৭ নভেম্বর) সকালে নিজ ফেইসবুকে শ্রমজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন,,
পোশাক শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আমার একান্ত আহ্বান ও সংহতি
প্রিয় সাধারণ শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। গত ছয় দিন ধরে আপনারা আপনাদের ন্যায্য অধিকার এবং রুটি-রুজির লড়াইয়ে যে বীরত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়েছেন, আমি তার সাথে সম্পূর্ণ একমত। আপনাদের এই রক্তঘাম করা আন্দোলন, কষ্ট এবং আবেগকে আমি মন থেকে সম্মান জানাই। আপনাদের এই রাজপথের লড়াইয়ের কারণেই আজ আমাদের মূল দাবি—নতুন মজুরি বোর্ড গঠন—বাস্তবায়িত হয়েছে। এই বিজয় সম্পূর্ণ আপনাদের, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একার নয়।
আমি আপনাদেরই একজন ভাই। আমি কোনো তৃতীয় পক্ষ বা অন্য কারও স্বার্থে নয়, বরং সম্পূর্ণ শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এবং আপনাদের সাথে একাত্ম হয়ে আজ কিছু কথা বলতে সামনে এসেছি। আমাদের আসল লক্ষ্য রাস্তা অবরোধ করে থাকা নয়, বরং আমাদের ন্যায্য পাওনা ও চূড়ান্ত দাবি আদায় করা।
যেহেতু আমাদের আন্দোলনের মুখে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়ে গেছে, তাই আমাদের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লড়াই এখন শুরু হবে আলোচনার টেবিলে। এই বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা মালিকপক্ষ ও সরকারের মুখোমুখি বসব এবং আপনাদের প্রতিটি দাবির পক্ষে সর্বোচ্চ দরকষাকষি করব।
এই মুহূর্তে আন্দোলনটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে কাজে ফেরা কেন আমাদের জন্য জরুরি ও বুদ্ধিমানের কাজ, তা আপনাদের সামনে স্পষ্ট করছি:
১. টেবিলের লড়াইয়ে শক্তি সঞ্চয়: আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না, এটি কেবল কৌশলগত কারণে সাময়িক স্থগিত হচ্ছে। আমরা যদি সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত মজুরি ঘোষণা না পাই, তবে আমাদের পুনরায় রাজপথে নামার পথ সবসময় খোলা আছে।
২. চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের অধিকার: মজুরি বোর্ড থেকে যে বেতন ঘোষণা করা হবে, তা যদি আপনাদের মনঃপূত না হয় এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা না করে, তবে সেই মুহূর্তেই আমরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করব এবং আপনাদের সাথে নিয়ে আবারও এর চেয়েও বড় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব।
৩. আমাদের নিজেদের রুটি-রুজি রক্ষা: আমরা সবাই জানি, গার্মেন্টস শিল্প নির্দিষ্ট সময়ের শিপমেন্টের ওপর টিকে থাকে। টানা আন্দোলনের কারণে বিদেশী ক্রেতারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় বা শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যায়, তবে কারখানাগুলো সংকটে পড়বে। দিনশেষে ক্ষতিটা আমাদের সাধারণ শ্রমিকদেরই হবে। কারখানা সচল রাখলে আমাদের আন্দোলনের চাপ ও নৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তাই আপনাদের ভাই হিসেবে, আপনাদেরই স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমি বিনীত অনুরোধ করছি—আসুন, আমরা আপাতত এই আন্দোলন স্থগিত করে কর্মস্থলে ফিরে যাই। উৎপাদন সচল রেখে আমরা মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দিই যে আমরা কাজে যেমন সেরা, দাবি আদায়েও তেমন বজ্রকঠিন।
মনে রাখবেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আপনাদের ঠকিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আল কামরান নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত। আপনারা কাজে ফিরুন, আর আমরা টেবিলে আপনাদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাই।
আপনাদেরই ভাই,
আল কামরান
সাধারণ সম্পাদক,
স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।